নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অল্প বয়সে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দেড়-দুই বছরের প্রেমের টানে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ২২ বছর বয়সী প্রেমিককে যেতে হলো জেলহাজতে। অন্যদিকে, নাবালিকা প্রেমিকার স্থান হয়েছে নেত্রকোণা কারাগারের সংশোধন বিভাগে। এই ঘটনায় প্রেমিক-সহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ থানার পেছনের রাউতপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুসেন সাহার মেয়ে মুন সাহা (১২) স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। একই এলাকার বাসিন্দা নয়ন দে-এর পুত্র অনিম দে প্রত্যয় (২২)-এর সঙ্গে তার প্রায় দেড় থেকে দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগেও একাধিকবার মুন স্বেচ্ছায় প্রেমিকের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মুনকে বাড়িতে খুঁজে না পাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা রাতে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং শুক্রবার সন্ধ্যার পর প্রেমিক অনিম দে প্রত্যয়ের বাড়ি থেকে প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনকেই আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
থানা পুলিশ প্রথমে বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও, শনিবার রাতে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নাবালিকার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই ঘটনায় অপহরণ মামলা রুজু করা হবে। সেই অনুযায়ী, শনিবারই অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ভিত্তিতে প্রেমিক অনিম দে প্রত্যয়কে শনিবার নেত্রকোণা আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরদিকে, নাবালিকা মুন সাহাকে ডাক্তারি পরীক্ষার পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেত্রকোণা কারাগারের সংশোধন বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার মোহনগঞ্জ থানার এসআই আজগর জানান, ৬ ডিসেম্বর অপহরণ মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং এতে শুধু প্রেমিক অনিম দে প্রত্যয় নন, মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— প্রেমিকের মা এবং মামা। পুলিশ বর্তমানে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।