ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে নতুন করে আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সম্প্রতি পরপর দুটি শক্তিশালী ও ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশটিতে এই নতুন কম্পন আঘাত হানল। রিখটার স্কেলে সর্বশেষ এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ দশমিক ৯ রেকর্ড করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে শনিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই দুর্যোগে রাজধানী কারাকাসের কিছু অংশ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই ভয়াবহতার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই কম্পন তৈরি হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইএমএসসি জানিয়েছে, সর্বশেষ এই ভূমিকম্পটি উত্তর ভেনেজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে আঘাত হেনেছে।
নতুন এই কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবারও মারাকাই ও কারাকাস শহরের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর আগে গত বুধবার দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ঐতিহাসিক এই বিপর্যয়ে প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন এবং ১৭২ জনেরও বেশি মানুষ এখনো বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। এ ছাড়া নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদার করতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, লা গুয়াইরা রাজ্যের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হবে।