জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতু গত ছয় বছর ধরে অব্যবহারযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে, কিন্তু তার সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের চরম অবহেলা এবং উদাসীনতার কারণে দুই তীরের হাজার হাজার মানুষ প্রায় বন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের ভেলামারী এলাকায় অবস্থিত এই সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। অথচ এটি ছিল আশপাশের কয়েকটি গ্রামের একমাত্র যোগাযোগের পথ। আজ সেই সেতু অবহেলা এবং ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত উদাহরণে পরিণত হয়েছে।
সেতুটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া নিয়মিত হয় না, কৃষকরা তাদের ফসল বাজারে নিয়ে যেতে কষ্ট পান, এবং জরুরি রোগীদের পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্ষাকালে নৌকা বা অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা, যা যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারী ক্ষোভের সাথে বলেন, “ছয় বছর ধরে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি আর ছলনা। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।”
আরেক বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ বলেন, “এই সেতুর অভাবে আমাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসন আমাদের দুর্দশা দেখেও যেন চোখ বন্ধ করে আছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার লিখিত অভিযোগ এবং মানববন্ধন করা সত্ত্বেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ এবং হতাশা বিরাজ করছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অতি শিগগিরই সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু না করলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন।