অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে শোকজ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই শোকজ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ডা. খালিদুজ্জামান তার প্রচারপত্রে নামের পাশে MSc in Clinical Embryology & Pre-implantation Genetics (India) ডিগ্রি উল্লেখ করে চিকিৎসা কার্য পরিচালনা করছেন। এই ডিগ্রি বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত নয়।
অভিযোগকারী আবদুল কাদের (বাড়ি নম্বর ১৭, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, লালবাগ, ঢাকা-১২০৫) প্রচারপত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করে বিষয়টি কাউন্সিলকে অবহিত করেন। বিএমডিসি মতে, অনুমোদিত নয় এমন ডিগ্রি ব্যবহার রোগীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর পরিপন্থী।
আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে—ধারা ১৩: বিদেশি বা দেশি যেকোনো মেডিকেল প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাংলাদেশে ব্যবহার করতে হলে বিএমডিসির স্বীকৃতি থাকতে হবে।ধারা ২৯: কোনো চিকিৎসক এমন পদবি বা বিবরণ ব্যবহার করতে পারবেন না যা অতিরিক্ত যোগ্যতা প্রদর্শন করে যদি তা স্বীকৃত না হয়। লঙ্ঘন হলে তিন বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পুনরাবৃত্তিতে প্রতিবার অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
বিএমডিসি ডা. খালিদুজ্জামানকে তার ডিগ্রির বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে পত্র প্রাপ্তির ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে।
এ বিষয়ে ডা. খালিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, নোটিশ এখনো হাতে পাননি। অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্তা। তিনি যাচাই করে দেখার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, তার হাসপাতালে সেবার সফলতার হার সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতাল ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও কাজ করেছেন।
এদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শোকজটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। ডা. খালিদুজ্জামান বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং জামায়াত মনোনীত ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী।
তিনি আগামীকাল (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন বলে জানানো হয়েছে।