বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জা আর সাউন্ড সিস্টেমের গান-বাজনার আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই রূপ নিলো এক নির্মম ট্র্যাজেডিতে। নেত্রকোনা সদর উপজেলায় বিয়ে বাড়িতে গান বাজনা ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় মোস্তফা আমীর ফয়সাল (২০) নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
নিহত মোস্তফা আমীর ফয়সাল নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বামনীকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। হামলায় আহতরা হলেন ফয়সালের চাচাতো ভাই রবীন হাসান (১৯), আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (১৮) এবং চাচা সাদেকুল ইসলাম (৪৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে বামনীকোনা গ্রামের সংসদ বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে সাউন্ড সিস্টেমে গান-বাজনা ও ছবি তোলার সময় একই গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মাসুম (১৯) তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে এসে নাচ-গান শুরু করে। এ সময় ফয়সাল তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মাসুম সেখান থেকে চলে গেলেও কিছুক্ষণ পর তার পরিবারের লোকজন ও দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফয়সাল ও তার স্বজনদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ফয়সাল ও তার চাচা সাদেকুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ফয়সাল মারা যান।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেম ও ছবি তোলা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত মাসুমসহ বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।