নিজের গর্ভধারিনী মাকে চিকিৎসার আশ্বাস ও প্রলোভনে ফেলে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন আব্দুল মকিছ—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব মাতারকাপন এলাকার দুই সহোদর আব্দুল মতিন ও আব্দুস শহিদ।
১৭ মার্চ দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মতিনের স্ত্রী ফুল বিবি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক ৭৮ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও প্রভাবশালী আব্দুল মকিছ ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাই জমিটি ভোগদখল করছেন।
ক্ষমতার দাপটে বিচার অস্বীকার!
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৭নং চাদনীঘাট ইউনিয়নে একটি বিচার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আব্দুল মকিছকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় তিনি সেই রায় মানতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, আব্দুল মকিছ স্থানীয় সাবেক এমপি জিল্লুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা নেছার আহমদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বছরের পর বছর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসছেন। তিনি তাতী লীগ নেতা সৈয়দ লিয়াকত আলীর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং সংগঠনের পদধারীও বটে।
আইনের তোয়াক্কা না করে থানার ডাক উপেক্ষা!
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সহোদররা ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়ের করেন। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহমেদ আলী একাধিকবার আব্দুল মকিছকে তলব করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
থানায় অভিযোগ দায়ের করলে দুই মাস আগে এসআই সাইদুল ও এসআই রানা তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ইসলাম ও রুয়েল তাকে জিম্মায় নিয়ে যান। তারা আশ্বাস দেন যে, পারিবারিকভাবে শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
সালিশেও গড়িমসি, পালটা হয়রানি ও অভিযোগ!
পরে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে মতিন বকশ, পঞ্চায়েত মুরব্বি খলিল মিয়া, বিশিষ্ট সালিশ আনোয়ার আলী, সাদিকুর রহমান সাদিকসহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে কোনো সমাধান না হওয়ায় বিচার অসমাপ্ত থেকে যায়।
এরপর অভিযোগকারীরা জানতে পারেন, সালিশদার মতিন বকশের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে ঘিরে চক্রান্ত চলছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আব্দুল মকিছ কখনোই গ্রামছাড়া ছিলেন না, বরং সবসময় বাড়িতেই থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।
ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দা ও সালিশি ব্যক্তিদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তারা তাদের প্রাপ্য জমি ফিরে পেতে চান। এ বিষয়ে আদালত ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মতিন বকশ, হেলু মিয়া, শহীদ মিয়া, পঞ্চায়েত সরদার আনোয়ার মিয়া, শ্রমিক নেতা ফজলুর রহমান ফজি, মাতারকাপন এলাকার ফারুক মিয়া, ব্যবসায়ী আলমঙ্গীর হোসেনসহ অনেকে।