দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন মোঃ তরিকুল ইসলাম, মো. জোবায়েদুল হক সহ জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় ৪ নেতা।
হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পার্বতীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই (সোমবার) সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি হাটে ইজারার কার্যক্রম তদারকির সময় স্থানীয় যুবদল নেতা আবিদুর রহমানের নেতৃত্বে হঠাৎ ৪০-৪৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতভাবে জোবায়েদুল ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত করে ফেলে এবং তার সঙ্গে থাকা ২৫,০০,০০০ (পঁচিশ লাখ) টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরো বেশ কয়েকজন এনসিপির নেতা হামলায় আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই হামলার সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আবিদুর রহমান ছাড়াও বাকিরা হলেন,—মো. শাহাদৎ হোসেন (৫০), মো. রাজু মিয়া (৩৫), মো. সাগর (৩১), মো. সোহেল রানা (৪৫), মো. মিজানুর রহমান (৩৫), হাবিব (৩৫), সাগর (৪০), মামুন (৩১), রাসেল (৩৪), রাজু (৪০), শাকিল (৩২), আল আমিন (৩০),। অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০-৩৫ জন। এদের অনেকেই পার্বতীপুর ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং যুবদলের নেতা।
জোবায়েদুল হক দাবি করেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল তাদের হাট ইজারার কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ও অর্থ আত্মসাৎ করা। এছাড়া আবিদুর রহমান এর আগেও একাধিকবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযোগকারী জোবায়েদুল হক আরো বলেন, “আমি হাট ইজারার কাজ তদারকি করতে গিয়েছিলাম। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে আক্রমণ করা হয়। আমার কাছে থাকা নগদ এক লাখ টাকা লুটে নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অপরদিকে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্বতীপুর উপজেলা যুবদলের এক নেতা জানান,”আবিদুর রহমানের নামে আগে থেকেই কিছু বিতর্কিত ঘটনা ছিলো।আজকের ঘটনা যুবদলের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন ঘটনার নিন্দা জানাই।”
তদন্ত নিয়ে জানা যায় আবিদুর রহমান এই ঘটনার পর (এন সি পি )কে ফাঁসাতে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ সকাল ১০ টা নাগাদ চিকিৎসা নিতে আসেন কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন উনি যুবদলের নেতা দুর্ঘটনায় ব্যথা পেয়েছেন তাই চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
পার্বতীপুর উপজেলা প .প.কর্মকর্তা ডা. এ কে এম শরিফুল রেজওয়ানাল বলেন
গতকাল এ ঘটনায় একজন চিকিৎসা নিতে আসেন “আবিদুর রহমান হাতে একটু ব্যথা করছে বলে সকাল ১০ টার দিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন পরে ১১ টার সময় নিজে ইচ্ছায় রিলিজ নিয়ে চলে যান “
এনসিপির একাধিক নেতাকর্মীও দাবি করেছেন, এটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক এবং প্রভাব বিস্তারমূলক হামলা। তাঁরা বলেন, “আবিদুর রহমানের নেতৃত্বে যুবদলের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই হাট নিয়ন্ত্রণে নিতে চাচ্ছে। ইজারাদার পক্ষকে হেয় করতেই আজকের এই ঘটনা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমবাড়ি হাট এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।