নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন একসময়কার শান্ত গ্রাম হলেও, বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে সম্পদ দখল-বিরোধের এক উত্তাল ময়দানে। প্রায় দুই দশক ধরে মালিকবিহীন পড়ে থাকা ১০ একর জমি ও ৬টি পুকুর ঘিরে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখলবাজি ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি মলয় বিহারি। তাঁর কোনো উত্তরসূরি বর্তমানে দেশে না থাকায়, ফেলে যাওয়া বিশাল সম্পত্তি বছরের পর বছর ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী, এমন মালিকবিহীন সম্পত্তি সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন বা ভূমি অফিস।
দখলবাজির ইতিহাস ও একটি হত্যা মামলার অভিযোগ মলয় বিহারির মৃত্যুর পর প্রথম দিকে সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন তাঁর কেয়ারটেকার শম্ভু এবং তাঁর স্ত্রী দীপালি। কিন্তু ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা দিলুর হাতে। এই দখল নিয়ে সংঘর্ষের জেরে একসময় দিলু ও তাঁর লোকজন শম্ভুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার দুদিন পরেই শম্ভুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। জীবন বাঁচাতে দীপালি সব ফেলে ঢাকায় পালিয়ে যান। সাম্প্রতিক লুটপাট ও নতুন করে উত্তেজনা। গত ২১ আগস্ট নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যখন মলয় বিহারির একটি পুকুর থেকে মাছ ও পাড়ের কলা লুট করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই লুটপাট হয়েছে স্থানীয় সবুজ মেম্বারের নেতৃত্বে। পুকুরের বর্তমান দখলদার আঞ্জু মিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন যে, প্রকাশ্যে দিবালোকে তাঁর ভোগকৃত সম্পত্তিতে এই লুটপাট চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সবুজ মেম্বার দাবি করেন, “মলয় বিহারির সম্পত্তি এককভাবে কারো দখলে থাকতে পারে না। এটি এখন গ্রামের মানুষের সম্পদ।” তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসী মিলে সিদ্ধান্ত নেবে এই সম্পত্তি সরকারের অধীনে যাবে, নাকি কেয়ারটেকার শম্ভুর স্ত্রী দীপালিকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
প্রশাসনের নীরবতা এবং জনমনে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রায় দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত এই সম্পত্তি কেন সরকারিভাবে রেজিস্ট্রিভুক্ত হলো না, সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। “তবে, স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ছোটখাটো এই বিরোধ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।