1. info@dailyshadhinbarta.com.bd : sbarta : দৈনিক স্বাধীন বার্তা Shadhin Barta
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, আইজিপি মামুনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ সোমবার, ১৭ নভেম্বর দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে মামলার অপর দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসি এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি এই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ পালন করেছেন, যা শেখ হাসিনা তাদের দিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল আরও জানান, আইজিপি মামুন ফাঁসির যোগ্য হলেও সত্য উন্মোচনে সহায়তা করায় তার শাস্তি কমানো হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল তাদের পর্যবেক্ষণে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। বিচারকাজ চলার সময় অডিও, ভিডিওসহ যেসব তথ্যউপাত্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে, বিচারক সেসবের বিবরণ দেন। ঘটনার শিকার ও সাক্ষীরা কী বলেছেন, তারও বর্ণনা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন ভিডিওতে পাওয়া শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য-প্রমাণের বিবরণ দেওয়া হয়। এছাড়াও ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণের বিবরণও তুলে ধরা হয়।

আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্টের অংশবিশেষ ট্রাইব্যুনাল পড়ে শোনান। গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্নজনের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোন কথোপকথনগুলো শোনানো হয়। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনালাপ ছিল।

শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। একই সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় স্ক্রিনে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও রায় ঘোষণা সরাসরি প্রচার করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেদিনই এই মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। প্রথমে শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এবং পরে আসাদুজ্জামান খান কামালকে আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন।

বর্তমানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন (১০ জুলাই) সাবেক আইজিপি মামুন গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। গত ১২ অক্টোবর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ, উভয়ই যুক্তিতর্কে আসামিদের খালাস আবেদন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
LICENCE NO- TRAD/DSCC/210965/2019 and applied for registration.
Community Verified icon