1. info@dailyshadhinbarta.com.bd : sbarta : দৈনিক স্বাধীন বার্তা Shadhin Barta
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী অপহরণ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও আগ্রাসী বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করছেন। এই ঘটনাকে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন না, বরং নিজের ‘নৈতিকতা’কেই একমাত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৮ জানুয়ারি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না।” তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, তার প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে কি না—উত্তরে তিনি বলেন, তিনি তা মানেন, কিন্তু “আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কী, তার ওপর নির্ভর করে।” ট্রাম্প তার বৈদেশিক নীতিতে মার্কিন সামরিক শক্তির ‘পাশবিক ব্যবহার’ প্রদর্শন করতে ইচ্ছুক।

গত ৩ জানুয়ারি ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায়। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মার্কিন বিশেষ বাহিনী শেষ পর্যন্ত মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়, যেখানে তাদের মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। সমালোচকেরা এটিকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন, যা কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করে।

এই অভিযানের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। তার প্রশাসন অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও, ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, তারা নীতি ‘নির্দেশ’ দেবে এবং অমান্য করলে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রোববার দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রদ্রিগেজকে সতর্ক করে বলেন, “যদি তিনি সঠিক কাজ না করেন, তাহলে তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে—সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।”

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি জোরদার করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে তিনি ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেন, যা ইসরাইল-ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল।

ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে পশ্চিম গোলার্ধে তার স্বার্থ রক্ষায় ‘নিঃসংকোচে’ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। সোমবার সিএনএনকে মিলার বলেন, “আমরা একটি পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।”

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এই অবজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে জাতিসংঘের সনদ এবং বহুপাক্ষিক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়াররা এই পদক্ষেপগুলোকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
LICENCE NO- TRAD/DSCC/210965/2019 and applied for registration.
Community Verified icon