জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা যেন ‘ডাকাতের আস্তানা’য় পরিণত না হয়, যেখানে নীতিহীন শক্তিশালীরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো যা ইচ্ছা কেড়ে নিতে পারে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে বার্লিনে এক সিম্পোজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে স্টেইনমায়ার এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানটি তার ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র, যারা এই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল, আজ তারাই মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।” সাবেক এই জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র এখন নজিরবিহীন আক্রমণের মুখে পড়েছে।
প্রেসিডেন্ট স্টেইনমায়ারের এই অস্বাভাবিক কড়া মন্তব্যকে গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী অপহরণ ও ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনার প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকে এমন এক অরাজকতা থেকে রক্ষা করা, যেখানে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা পুরো দেশকেই কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।”
জার্মানিতে প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আলংকারিক হলেও স্টেইনমায়ারের এই বক্তব্যের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রথাগত রাজনীতিবিদদের তুলনায় তিনি অনেক বেশি স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জার্মান নাগরিকদের আস্থা কমছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষ এখন মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয়। বিপরীতে, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রতি জার্মানদের আস্থা অনেক বেশি।