সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা কুর্দি সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, এই আদেশে প্রথমবারের মতো কুর্দি ভাষাকে আরবির পাশাপাশি জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সিরিয়ার সব কুর্দি নাগরিককে পূর্ণ নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ এসেছে গত সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় ভয়াবহ সংঘর্ষের পর। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ওই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন এবং শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকা থেকে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। কুর্দি যোদ্ধারা পরে সরে গেলে সহিংসতা থামে।
আলেপ্পোর এই ঘটনা সিরিয়ার গভীর জাতিগত বিভাজনকে আরও উন্মোচিত করেছে। ১৪ বছরের যুদ্ধের পর একক নেতৃত্বের অধীনে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রেসিডেন্ট শারার প্রতিশ্রুতি কুর্দি বাহিনীর সন্দেহ ও প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। কুর্দি নেতৃত্ব তার ইসলামপন্থি সরকারের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে।
নতুন আদেশে কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। কুর্দি ভাষা শিক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে স্কুলগুলোয়, বিশেষ করে কুর্দি-অধ্যুষিত এলাকায়। এছাড়া ১৯৬২ সালের হাসাকা প্রদেশের আদমশুমারিতে যেসব কুর্দির নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে—যারা আগে রাষ্ট্রহীন হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন—নাগরিকত্ব প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নওরুজ উৎসবকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই আদেশকে অনেকে কুর্দি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ ও ঐক্যের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যদিও দেশের উত্তরাঞ্চলে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
খবর:রয়টার্স