ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারি ও নির্দেশনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন অভিযানে আটকের পর ক্ষমতা গ্রহণ করা রদ্রিগেজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ওয়াশিংটনের নির্দেশের বিষয়ে ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে মনে করেন এবং এখন থেকে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব রাজনৈতিক ধারায় দেশ পরিচালনায় মনোযোগ দেবেন।
মাদুরোকে আটকের পর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রদ্রিগেজকে এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে মাদুরোপন্থীদের আস্থা ধরে রাখা, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের সন্তুষ্টি অর্জন—এই দ্বৈত চাপের মধ্যে ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে তিনি মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।
বিশেষ করে তেল উৎপাদন পুনরায় শুরুর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত ও নির্দেশের প্রেক্ষিতে পুয়ের্তো লা ক্রুজ শহরে তেল শ্রমিকদের এক অনুষ্ঠানে রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদদের ওপর ওয়াশিংটনের খবরদারি এবার বন্ধ হওয়া দরকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত ও মতভেদ ভেনেজুয়েলার জনগণই সমাধান করবে।
জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনীর ঝটিকা অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বজায় রেখেছে। শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে, পরে রদ্রিগেজকে সমর্থন দিয়ে তাকে ‘চমৎকার মানুষ’ বলে অভিহিত করেন।
তবে সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে তেল উৎপাদন ছাড়াও চীন, ইরান, রাশিয়া ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা রদ্রিগেজের অসন্তোষের প্রধান কারণ। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় পায় না। তবে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন। আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক রাখতে কোনো বাধা নেই বলে জানান তিনি।অভ্যন্তরে মাদুরোপন্থী ও বিরোধী সমাজতান্ত্রিকদের মধ্যে বিভাজন থাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা রদ্রিগেজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মুখে ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর তথ্য অনুসারে, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) অন্তত ১০৪ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা ৮ জানুয়ারির পর একদিনে সর্বোচ্চ মুক্তির রেকর্ড।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে ‘শক্তিশালী মানবিক নিদর্শন’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানান, গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮০৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া মাদুরোর দেওয়া শান্তি ও সহাবস্থানের নির্দেশের অংশ।