ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী হেরমান গালুশচেঙ্কোকে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাবু জানিয়েছে, রোববার রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রমের সময় ‘মিডাস’ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের অনুমতি ও আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। সূত্রমতে, গালুশচেঙ্কো ট্রেনে করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
নাবু ও স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটর অফিস এর অনুরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক করে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত গালুশচেঙ্কো ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জ্বালানি মন্ত্রী এবং পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। গত নভেম্বরে নাবু-এর বড় ধরনের অভিযানের পর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
‘মিডাস’ মামলায় অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ইউক্রেনের জাতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কোম্পানি ‘এনার্গোঅ্যাটম’-এর ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০-১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১০ কোটি ডলারের অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি তার প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ী তিমুর মিন্ডিচকে (জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত) জ্বালানি খাতে সুবিধা করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।
এই মামলাটিকে জেলেনস্কি প্রশাসনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি তদন্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গালুশচেঙ্কোসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এতে জড়িত। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই স্ক্যান্ডাল ফাঁস হওয়ার পর একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।
সূত্র : আল জাজিরা