দীর্ঘ ৪২ বছরের অক্লান্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম, রাজপথের লড়াই, জেল-জুলুম ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের জনপ্রিয় নেতা ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর গতকাল তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ শপথ গ্রহণ করেন। কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে বিজয়এবারের নির্বাচন ড. হিলালীর জন্য সহজ ছিল না। বিএনপির আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পেয়েও তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে দলেরই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলালকে (ঘোড়া প্রতীক)।
দেলোয়ার হোসেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র, অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও চাপ উপেক্ষা করে কেন্দুয়া-আটপাড়ার সাধারণ মানুষ ড. হিলালীর দীর্ঘ ৪২ বছরের ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং ধানের শীষের প্রতি অটল বিশ্বাস দেখিয়েছেন।
চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৬১ ভোট। এতে ৪৯ হাজার ৫০৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—জনগণ ত্যাগী ও নিবেদিত নেতৃত্বের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে। ৪২ বছরের অগ্নিপরীক্ষার যাত্রা ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর রাজনৈতিক জীবন ছিল চরম কঠিন। ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত এই দীর্ঘ পথ।
মামলা-হয়রানি: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেকর্ড ৫৬টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন।
পারিবারিক নির্যাতন: শুধু নিজে নয়, তাঁর বয়স্ক পিতাকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাবাস করতে হয়েছে।
শিক্ষা ও নেতৃত্বের বিরল সমন্বয় ড. হিলালী কেবল মাঠের যোদ্ধা নন, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্বও। ২০১২ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নেত্রকোনা জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
শপথ গ্রহণ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ড. হিলালী বলেন, “এ জয় আমার একার নয়—এটি কেন্দুয়া-আটপাড়ার সাধারণ মানুষের জয়। ৪২ বছর রাজপথে থেকে জেল খেটেছি, দলের ভিতরে-বাইরে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছি। কিন্তু জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থাই আমাকে আজ এই সম্মানজনক অবস্থানে এনেছে। আমি এলাকার উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চাই।”
এই বিজয় ও শপথ নেত্রকোনা-৩ আসনের মানুষের জন্য নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ড. হিলালীর মতো ত্যাগী নেতার নেতৃত্বে এলাকায় উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা।