পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, তাকে বিচার বিভাগের কাছে নতি স্বীকার করাতে বাধ্য করার জন্য তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে কারাগারে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইমরান খানের বোন আলিমা খানম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে দাবি করেন, ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর পরিস্থিতিতে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তিনি বিচার বিভাগকে দায়ী করে বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জামিন শুনানি স্থগিত রাখছেন যাতে তাদের কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়।
ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সাফদারের বরাত দিয়ে আলিমা খানম জানান, বুশরা বিবিকে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে, যাতে ইমরান খান সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় বাধ্য হন। তবে ইমরান খান তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজে যেকোনো কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত, কিন্তু তার স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করার এই কৌশল সফল হবে না। তিনি বলেন, “কোনো সমঝোতা নয়, কোনো আত্মসমর্পণ নয়; হয় মুক্তি, নয় মৃত্যু।”আলিমা খানম আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ইমরান খানের ম্যান্ডেট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে এবং কিছু বিচারক সরাসরি সরকারকে সহযোগিতা করছেন।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী রয়েছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, তিনি তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছেন এবং গত মাস থেকে তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
এর আগে ইমরান খানের দুই বোন আলিমা ও উজমা খান অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনির মিলে ইমরান খানকে কারাগারে ধীরে ধীরে মেরে ফেলার ‘ঘাতক ষড়যন্ত্র’ চালাচ্ছেন। গত মাসে ঈদের সময় ছেলে কাসিম খানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় ইমরান খানও বুশরা বিবির ওপর চলমান ‘অমানবিক আচরণ’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এ দেশের বিচারকদের নিজেদের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। তারা ব্যক্তিগত লাভের জন্য নিজেদের বিবেক বিক্রি করে দিয়েছেন।”
পিটিআই নেতৃত্বের দাবি, ইমরান খানকে মানসিকভাবে দুর্বল করতেই তার স্ত্রীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।