ইরানের সাথে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সাথে তেহরানকে আলোচনার সুযোগ দিতেই মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের পূর্বনির্ধারিত বিমান হামলা আপাতত স্থগিত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশগুলোর নেতাদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানে যে সামরিক হামলা চালানোর কথা ছিল, তা পিছিয়ে দিয়ে তেহরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ওই অঞ্চলের নেতারা।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা না হয়, তবে ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘তাদের সাথে সমাধানে পৌঁছানোর একটি খুব ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। যদি বড় কোনো বোমা হামলা ছাড়াই এই সংকটের সমাধান করা যায়, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি খুশি হব।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে তেহরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সেই যুদ্ধবিরতিটি মোটামুটি বহাল রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ট্রাম্প বারবার তেহরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরান হয়তো আবারও তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।