ইসরাইলের অধিকাংশ নাগরিকই চান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন রাজনীতি থেকে বিদায় নেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, আগামী শরতে হতে যাওয়া পরবর্তী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর আর অংশ নেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে মাত্র ৩৩ শতাংশ নাগরিক তার প্রার্থী হওয়াকে সমর্থন করেছেন এবং ৮ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ায় দেশে-বিদেশে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। ৭৬ বছর বয়সি এই নেতা বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি এবং ভোটারদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার পর থেকেই তার ওপর জনগণের আস্থা কমতে শুরু করে। এরপর গাজায় ইসরাইলি অভিযানে ৭৩,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হলে বিশ্বজুড়ে ইসরাইল একঘরে হয়ে পড়ে এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। ইসরাইল প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও পরে লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংসতা থামেনি, যেখানে গত দুই দিনে অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তিকে অনেক ইসরাইলি বিশ্বাসঘাতকতা ও লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ইরান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়বে, যা দেশটির উত্তরের অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি।
আগামী অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে বিরোধী দলগুলো দেশের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছে। নেতানিয়াহু ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯, ২০০৯ থেকে ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দফায় দফায় ক্ষমতায় থেকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।