ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন চায় স্থানীয় এলাকাবাসী। দরপত্র অনুমোদন হওয়ার ৪ বছর পর ও ভূমি অধিগ্রহণ, খাস জমি উদ্ধার এবং প্রকল্পটির কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান।
এলাকাবাসীর দাবি প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে একদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া অন্যদিকে যেমন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ঠিক তেমনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও বদলে যাবে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উক্ত প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ কাজও শেষ করা সম্ভব হয়নি। কৃষি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদরবেশ গ্রামে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে “বাংলাদেশ দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল বীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্প” নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। প্রকল্পটি স্থাপনের জন্য ৮০ একর খাস জমি সহ মোট ৫৭১ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২১-২২ সালের অর্থবছরের সময় উক্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিজিবির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭৮ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৭৩ কোটি টাকা।
বাকি ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ফসল উৎপাদন করার জন্য। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নজরুল এন্টারপ্রাইজ কে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ফসল উৎপাদনের কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ চলমান রয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকার। এছাড়াও ইতিমধ্যে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রধান পাকা সড়কটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির অনুমোদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা রাখছি খুব শীঘ্রই ভূমি অধিগ্রহণে ৪ ধারা নোটিশ করতে পারব। কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ সরোয়ার জাহান বলেন, উক্ত প্রকল্পের মধ্যে ৮০ একর জমি হল খাস ১ নং খতিয়ান এর অন্তর্ভুক্ত। কিছু অসাধুচক্র বেশ কয়েক বছর জমিগুলো ভোগ দখল করে রেখেছিল। এছাড়া প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সময় তারা বিভিন্নভাবে বাধা দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। আমরাও চাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।