ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, যদি ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায় বা যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে, কিন্তু ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের (১২ দিনের যুদ্ধ) সময় ইরানের যে সামরিক প্রস্তুতি ছিল, বর্তমানে তা আরও ব্যাপক ও উন্নত হয়েছে।
তিনি বলেন, “যদি ওয়াশিংটন আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়—যেমনটা তারা আগেও করেছে—তাহলে আমরা প্রস্তুত। আমি আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনার পথ বেছে নেবে।” তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে আরাগচি বলেন, বিক্ষোভে সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী উপাদান ঢুকে পড়েছে, যারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার মানহানির প্রতিবাদে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে এবং দেশের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিক্ষোভ নিয়ে একাধিকবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। গত শনিবারও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও ঢেলে সাজানোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত এবং অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর।