৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে জাপানের পশ্চিমাঞ্চল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে শিমানে প্রিফেকচারের পূর্বাঞ্চলে এই কম্পন আঘাত হানে। তবে ভূমিকম্পের কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। খবর রয়টার্স ও জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির (জেএমএ)।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জেএমএ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল শিমানে প্রিফেকচারের পূর্বাঞ্চলে, গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার। এর ফলে শিমানের মাতসুয়ে ও ইয়াসুগি শহরে এবং প্রতিবেশী তোত্তোরি প্রিফেকচারের কয়েকটি এলাকায় জাপানি শিন্দো স্কেলে কম্পনের মাত্রা উচ্চ ৫ রেকর্ড করা হয়েছে। এই স্তরে ভারী আসবাবপত্র পড়ে যেতে পারে এবং গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৮ বলে উল্লেখ করেছে।
জেএমএ জানিয়েছে, একই অঞ্চলে পরপর বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৪.৫, ৫.১, ৩.৮ এবং ৫.৪। এসবের কারণেও কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন উচ্চ মাত্রার আফটারশকের সম্ভাবনা রয়েছে।ভূমিকম্পের ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে এবং পশ্চিম জাপানের শিনকানসেন (বুলেট ট্রেন) লাইনের কিছু অংশে যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। শিমানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এ কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। প্রায় ১২৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে ১৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার অধিকাংশই নিম্ন মাত্রার।