মোঃ রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গণপরিবহন চালুর পূর্বে স্বাস্থ্যবিভাগ কর্তৃক জারীকৃত নিয়মবিধি এবং যাত্রী সেবা নিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। করোনা সংক্রমন রোধে গণপরিবহন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে পরীক্ষামুলকভাবে তা চালু করা হয়েছে।
গত ১ লা জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল গণপরিবহন চলার উপর এবং তা ঠিকমত মানা হচ্ছে কি না তার তদারকি তে কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে গত রোববার থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। এজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা দেওয়ার জন্য সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গণপরিবহন চালুর পর বেশকিছু নিয়মাবলী ও স্বাস্থ্যবিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিধিনিষেধ বাধ্যতামুলক মানার উপড় জোর দেয়া হয়েছে।
জেলার অভ্যন্তরীন ও আন্তঃজেলা গণপরিবহন চালুর পর রোডে চাঁদাবাজি বন্ধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা এবং বিআরটিএ কর্তৃক ধার্য্যকৃত ভাড়া আদায় সহ সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিবহনগুলো চলার উপর গুরুত্ব দিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
গত ৩০ মে শনিবার স্থানীয় গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে বৈঠক হয়। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় গণপরিবহন পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশকিছু কারিগরী নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে বাসস্ট্যান্ড গুলোতে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সংরক্ষন, জরুরী পরিকল্পনা প্রণয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্র বা জায়গা স্থাপন, প্রতিটি ইউনিটে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নিজেকে ও যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখতে প্রশিক্ষন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
মাস্ক, জীবানুনাশক পদ্ধতি মানসম্মত ও প্রচুর সংখ্যক মজুত রাখতে হবে। শ্রমিক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অবস্থার খোজখবর ও তা নথিভুক্ত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অসুস্থ্যতা বোধ হলেই তাকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।
পাশাপাশি যাত্রীদের ক্ষেত্রে ও শ্রমিকদের জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে বাসস্টান্ড গুলোতে বিশেষ একটি জায়গা চিহ্নিত করে রাখতে হবে এবং তাপমাত্রা মাপার জন্য ইনফ্রারেড থার্মোমিটার রাখতে হবে। যে সব যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা (কর্মীদের জন্যও) ৩৭.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর উপর থাকবে, তাদের দ্রæত ঐ জরুরী চিহ্নিত স্থান বা ঘরে অস্থায়ী কোয়ারেন্টানে রাখতে হবে।
চলাচলের জায়গাগুলো ও পরিবহন জীবানুমুক্ত করতে হবে। পরিবহনে স্বাভাবিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে জানালাগুলো খুলে দিতে হবে, এক সিটে একজন করে বসবে ফলে শারিরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। যাত্রী উঠানামা করার সময় অবশ্যই ৩ ফিট দুরত্ব রেখে তা করতে হবে এবং শ্রমিক কর্মচারীদেরও তা মানতে হবে।
প্রতিটিপে ছোট বা মাঝাড়ি কিংবা বড় পরিবহনগুলোর সিট, সিটকভার, চলাচলের জায়গা, কেবিন, হাত মুখের ছোয়া লাগে এমন স্থান গুলো জীবানুমুক্ত করতে জীবানুনাশক দিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অপরিহার্য বলে তা তদারকিতে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা বলা হয়েছে। যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামাল এবং গাড়ীর ব্যাগ রাখার স্থানও জীবানুমুক্ত করে নিতে হবে। কাউন্টার গুলোতে ও টয়লেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা তরল সাবান, প্রয়োজনীয় টিস্যু রাখতে হবে।
সবসময় করোনাভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে করনীয় কাজের সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচার, লিফলেট, অডিও ও ভিডিও রেকর্ড এ তা শুনানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়গুলো স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি তে অবশ্যকরনীয় এবং নিয়মগুলো ঠিক মত মানা হচ্ছে কি না তা তদারকিতে আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থেকে নজরদারী করবে বলে জানা গেছে।
এদিকে কুড়িগ্রামে নো মাস্ক, নো ট্রাভিলিং এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। কুড়িগ্রামে মাস্ক ছাড়া বাইরে না বেরানোর আহবান জানিয়ে ‘ কুড়িগ্রামে নো মাস্ক, নো ট্রাভিলিং’ পদ্ধতির উদ্ধোধন এবং এর অংশ হিসেবে বিনাম‚ল্যে মাস্ক বিরতরণ করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক।
৪ জুন উদ্বোধন ও বিনাম‚ল্যে মাস্ক বিরতন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যুদ্ধ করে হলেও নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একটি জীবানুর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই কাজ করতে হবে।
ঘোষপাড়াস্থ গণপরিবহনে কাউন্টার গুলোতে সচেতনতা ফ্যাস্টুন, ও পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিরতন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক ১ লক্ষ মাস্ক বিতরনের ঘোষণা দেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসকের পক্ষথেকে সামাজিক দ‚রত্ব পালন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চত করন, সরকারের নির্ধারিত বাসভাড়া বাস্তবায়নে মনিটরিং কার্য্যক্রম অব্যহত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।