মোঃ আরিফ হোসেন,লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরে দেড় বছরের শিশু মোঃ হাবিবুর রহমান এর শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুঁশ করায় ঘটনায় মামলার আসামী খুঁকি বেগমের ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার (৫জুন) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৫নং পার্বতীনগর ইউনিয়নে লক্ষ্মীপুর টু রামগঞ্জ সড়কের দু’পাশে মানব বন্ধন করা হয়।
করোনায় পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এলাকাবাসী এই মানববন্ধন করেন।এই সময় উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী শিশু হাবিব এর দাদা লাতু মিয়া,দাদী রহিমা বেগম,সদর উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর সহ এলাকাবাসী প্রমুখ।
জানা গেছে, শিশু হাবিবের শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগে দাদা লাতু মিয়া বৃহস্পতিবার (২৮মে) সন্ধায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
এতে খুকি বেগমকে বিবাদী করে আসামী করা হয়।পুলিশ ওই দিন রাতে বিবাদী খুকি বেগমকে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বর্তমানে জেলা কারাগারে আছেন।
ঘটনাসূত্রে জানা যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৫ নং পার্বতীনগর ইউনিয়ন এর ৯ নং ওয়ার্ড হাজী জিন্নত আলী মুন্সী বাড়ী নিবাসী হাবিবের দাদা লাতু মিয়া দৈনিক স্বাধীন বার্তার পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন,খুঁকি বেগম এর সাথে তাদের দীর্ঘদিন পারিবারিক কলহল লেগে আছে।খুঁকি বেগম পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার নাতিকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করিয়া থাকে।
গত সোমবার (১১/০৫/২০২০) ইং তারিখ অনুমানিক বিকাল ৪ ঘটিকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সুকৌশলে আমার নাতি মোঃ হাবিবুর রহমান (১৮ মাস) কে তাহার বসত ঘরে নিয়া হত্যার উদ্দশ্যে সিরিজ দিয়ে তাহার পাছায় একাধিক ইনজেকশান এর মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করে।আমার নাতির শোর চিৎকার শুনিয়া তার মা শামচুন নাহার ও বোন নাবিলা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু হাবিবকে উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে শিশু হাবিব এর বোন ঘটনাস্থলে সিরিজ ও কীটনাশক এর বোতল দেখতে পায়।তারা শিশুটির পাছায় রক্ত এবং ক্ষত দেখে বিব্রত হয়ে পড়ে।তারা খুঁকি বেগম কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে কোনো সদোত্তর দিতে পারে নাই তিনি।পরে তারা শিশুটিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।
বিষক্রিয়ার ফলে শিশু হাবিবুর রহমান(১৮মাস) এর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেপার করেন।পরবর্তীতে তাহার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেপার করেন।
কিন্তু শিশুটির শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এ রেপার করা হয়।বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন আছে। পরিশেষে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবী ওই মহিলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই তারা। যাতে করে কোনো এলাকায় এই ধরনের ঘটনা যেনো না ঘটে।