একদিকে বন্যায় জনসাধারণের হতাশা, অপরদিকে ফসল বেড়ে ওঠার উর্বর শক্তি একেবারে নিঃশেষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি জমির পাশাপাশি একের পর এক কেটে নেয়া হচ্ছে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরশুরামের মুহুরী কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেরিবাঁধ এবং চরের মাটি। স্থানীয় জনসাধারণ জানিয়েছেন, পুরো উপজেলায় প্রতিযোগিতা করে মাটি কাটা হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের কাছে থেকে আরো জানা যায়, পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর চিথলিয়া, বক্স মাহমুদ ইউনিয়ন ও এবং পরশুরাম পৌরসভার প্রতিটি এলাকায় সমানভাবে মাটি কাটার প্রতিযোগিতা চলছে। এই এলাকাগুলোতে রাতের আঁধারে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় দেয়া হচ্ছে এবং অন্যান্য জমি ভরাট এর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একদিকে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে।
প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই মাটি ভর্তি শতাধিক ট্রাক রাতভর চলছে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পরশুরাম উপজেলার ৩ নং চিথলিয়া ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডে এবং মির্জানগর ইউনিয়নের কালিকাপুর, কাউতলী, পূর্ব সাহেবনগর, গদা নগর, মাটিরাঙ্গা এবং মেলাঘর ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের সাতকুচিয়া, খন্ডলহাই এবং চারিগ্রাম সহ পরশুরাম পৌরসভার বাউর খুমা, বাউর পাথর, বাঁশপদুয়া দক্ষিণ কোলাপাড়া উত্তর কোলাপাড়া সহ প্রায় ৫০ টি গ্রামে নির্বিঘ্নে ধ্বংস করা হচ্ছে কৃষি জমির মাটি।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে বর্তমানে ৫০ একর কৃষিজমি জমি জলাশয় পরিণত হয়েছে। ওই জমিগুলোতে বোরো ধান চাষ করা হতো আগে। গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ফেলার কারণে জমিগুলোতে ফসল উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা স্কেভেটর দিয়ে কিছু কিছু জায়গায় ২০ থেকে ৩০ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।