নেকেন্দুয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাইলু আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার পনকেন্দুয়া হাওড়ে কৃষক ইদু মিয়া তার ছেলে নূরে আলমকে নিয়ে ধান গাছের চারা তুলতে যান। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সিদ্দিকুর রহমান, শাকিল মিয়া, আলমগীর এবং মতি মিয়া ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
এজাহারে বলা হয়েছে, আসামীরা অতর্কিতে ইদু মিয়া ও তার ছেলেকে ঘিরে ফেলে। এরপর সিদ্দিকুর রহমানের নির্দেশে জাহাঙ্গীর আলম কোদাল দিয়ে ইদু মিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত করে। পরে শাকিল মিয়া দা দিয়ে আবারও মাথায় আঘাত করতে গেলে ইদু মিয়া বাম হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং তার কনিষ্ঠ আঙুল কেটে যায়। মতি মিয়া লোহার রড দিয়ে তার বাম পায়ে আঘাত করে এবং অন্য আসামীরা লাঠিসোটা দিয়ে তাদের দু’জনকেই এলোপাতাড়ি মারধর করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইদু মিয়াকে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ আগস্ট রাত ৭টা ৪০ মিনিটে ইদু মিয়া মারা যান।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ৪ আগস্ট তাকে দাফন করা হয়। নিহত ইদু মিয়ার স্ত্রী লাইলু আক্তার বলেন, স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত থাকায় মামলা দায়ের করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার সুত্রে জানা গেল , এজাহার পাওয়ার পর মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।