ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিরীহ পরিবারের সদস্য আবুল হাসেম (৫৬) নামে এক জুতার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতরভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থোপেডিক্স ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় রোববার বিকালে ভুক্তভোগীর বোন রেজিনা আক্তার বাদী হয়ে উত্তর বানাইল গ্রামের কামরুল ইসলাম ইন্টু, মিন্টু মিয়া, মুন্না মিয়া, উসমান মিয়া এবং আব্দুল মালেকের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ৩০ জুলাই মধ্য রাতে উপজেলার ৪নং চন্ডিপাশা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগী আবুল হাসেম জানান, তিনি উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের উত্তর বানাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের পুত্র। তিনি ওইদিন রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরার সময় অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম ইন্টু গং তাঁর পথ রোধ করে মারধর শেষে তাকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে একটি পতিত জমিতে ফেলে রেখে চলে যায়। ৫ ঘন্টা পর তাকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বোন রেজিনা আক্তার জানান, তাদেরই চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বিআরএস সংশোধনের জন্য আদালতে মামলাও আছে। তবে অভিযুক্ত চাচা নজরুল ইসলাম সহ কামরুল ইসলাম ইন্টু গং বিআরএস মূলে জোরপূর্বক জমি দখলে নিয়ে গেছে। নজরুল গং সালিশ-দরবার মানে না।
আবুল হাসেমের ভাই আনোয়ার জানান, এরপূর্বেও তারা আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাট ও মারধর করেছে এবং মিথ্যা মামলায় দিয়ে হয়রানি করেছে। এছাড়া নজরুল ইসলামের মেয়ের জামাতার দাদা অবসরপ্রাপ্ত এসপি ও প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অপরদিকে অভিযুক্তদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানর ওসি তদন্ত মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে । আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।