নেত্রকোনা, ২১শে জুলাই ২০২৫: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কালা মিয়া (৬০) গত ৯ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় দায়েরকৃত মামলা নং ৩১/১৫৯, তারিখ ২৫/৬/২০২৫-এর বিবাদী পক্ষ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও কালা মিয়ার মৃত্যু: ২১ জুন, ২০২৫ তারিখে কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর (সম্পদূর্গা) গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে কালা মিয়া প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। প্রাথমিকভাবে তাড়াইল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে ২১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৮ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
২৯ জুন এক দিনের চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে ফিরে গেলেও, ৭ জুলাই শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হলে তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ৯ জুলাই সকাল ৭:৩০ মিনিটে কালা মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা ও আসামিদের উদ্বেগ: কালা মিয়ার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মামলাটি ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড – ১৮৬০ ধারা মোতাবেক চলমান ছিল। মামলার ১০ জন আসামির মধ্যে ৬ জন (যাদের মধ্যে মোঃ আতাউর রহমান গং উল্লেখযোগ্য) ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কালা মিয়ার মৃত্যুর খবর জানার পর আসামিপক্ষের ১৩টি পরিবার চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ১০ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কালা মিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর বাদী পক্ষ আসামিদের বাড়িঘরের আসবাবপত্র, ধান, চালসহ (প্রায় ১কোটি টাকা উপরে) ১৩টি পরিবারের সমস্ত মালামাল নিয়ে যায়।
এমনকি কেন্দুয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্তৃক জনসাধারণের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য স্থাপিত বিবাদী পক্ষে একজনের মোঃ শহিদুল ইসলাম (পিতাঃ মৃত আব্দুর রহমান) এর নামে থাকা একটি সাবমার্সিবল পাম্প ও পানির ট্যাংকিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আসামি পক্ষের দাবি, কালা মিয়ার মৃত্যুর পর তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। প্রাণের ভয়ে তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না এবং অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
এ ঘটনায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবাদী পক্ষ তাদের জানমালের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার জন্য দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। বিজ্ঞ মহল মনে করে অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব।