নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং এটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে এলাকার মানুষের মন জয় করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের গ্রাম সংলগ্ন এই তদন্ত কেন্দ্রটি একসময় ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত ছিল। এর সুবিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে সুপরিকল্পিত অবকাঠামো, যা চোখে পড়ার মতো।
এখানে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা হাজতখানা, মালখানা, অস্ত্রাগার, এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। এছাড়াও আছে একটি মসজিদ, অজু করার স্থান, এবং শান বাঁধানো ঘাটসহ একটি মনোরম পুকুর। এই সুন্দর পরিবেশ এলাকার মানুষের কাছে কেন্দ্রটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সীমিত জনবল ও সম্পদ, তবু সেবায় নিরলস।
পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি বর্তমানে পাইকুড়া, মোজাফরপুর, রোয়াইলবাড়ি আমতলা এবং চিরাং এই চারটি ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। এত বড় একটি এলাকার জন্য কেন্দ্রটির জনবল এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে এখানে মাত্র দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং দুইজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) কর্মরত আছেন, যেখানে প্রয়োজন দ্বিগুণ জনবল। এছাড়া ১২ জন কনস্টেবল এবং দুজন ড্রাইভার থাকলেও তাদের জন্য মূল ফটকে নেইম-প্লেট, কম্পিউটার অপারেটর, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা ফ্যামিলি কোয়ার্টারের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা নেই। গাড়ি বলতে একটি ছোট পিকআপ এবং মোটরসাইকেল দিয়েই তাদের কাজ চালাতে হয়।
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে সফল অভিযান: এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ত্রুটি রাখছেন না। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এলাকায় মাদক, জুয়া এবং অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ অনেকটাই কমে এসেছে। স্থানীয়রা এখন আগের চেয়ে বেশি নিরাপদে থাকেন এবং পুলিশের কাছে নির্দ্বিধায় সাহায্য চাইতে আসেন।
কর্মকর্তারা মনে করেন, বাংলাদেশ পুলিশ চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসে এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে তাদের সেবা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
এই তদন্ত কেন্দ্রটিকে আরও উন্নত এবং কার্যকর করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানো হলে এই কেন্দ্রটি এলাকার মানুষের কাছে আরও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে।