ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় অটোরিকশা চালক ফাহিম হত্যায় জড়িত ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মো. সজীব হাসান ও ছাত্রদল কর্মী আবির এবং মারুফকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল। বুধবার বিকালে উপজেলা ছাত্রদলের দলীয় প্যাডে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মানঞ্জুরুল হক আরিফ ও সদস্য সচিব আসাদ ফরাজী ওই ৩ জনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে বহিষ্কারাদেশ দেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, উপজেলার মানকোন বোর্ডঘর এলাকার শিববাড়ি গ্রামের মুদি দোকানী রাসেল মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়ার মাত্র ৩৫০ টাকা পাওনার তুচ্ছ ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি সজীব হাসান ও তার বাহিনী টাকার বিনিময়ে মুদি দোকানি রাসেলের পক্ষ নিয়ে গত ১১ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মাতবরদের উপস্থিতিতে বোর্ডঘর বাজারে সালিশ হবে জানিয়ে মজনু মিয়াদের বাড়িতে ভুয়া খবর পাঠিয়ে তাদের ডেকে আনে।
সজীবের ভুয়া খবরে নিহতের চাচা মজনু মিয়া, দাদী ফিরোজা খাতুন, বোন ফারজানা খাতুন, চাচাতো ভাই ইয়াছিন বার্ডঘর বাজারের জামানের স’মিলের সামনে আসলে মুক্তাগাছা থানার মানকোন ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি সজিব হাসানের (২৫) নেতৃত্বে তার বাহিনীর সালমান (২৬) জহিরুল (২২), আবির (২৪), মারুফ (২১), পারভেজ, জয় (২২), মুইন (২৬), সাজ্জাদ, আবুজশ (২১), মোাফিজ (২৩) ও রাসেল মিয়া (৩৫) সমিলের চিরাই করা কাঠের বাটাম দিয়ে অটোরিকশা চালক ফাহিমসহ বাকীদেরকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটায়। এতে অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরলেও ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোরিকশা চালক ফাহিমের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাতে নিহত ফাহিমের মা রুবি আক্তার বাদি হয়ে মুক্তাগাছা থানার মানকোন ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি সজীব হাসানকে (২৫) এক নম্বর আসামী করে এবং সালমান (২৬), জহিরুল (২২), আবির (২৪), মারুফ (২১), পারভেজ, জয় (২২), মুইন (২৬), সাজ্জাদ, আবুজশ (২১), মোাফিজ (২৩) ও রাসেল মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মানকোন বোর্ডঘর বাজার এলাকায় ১৩ আগস্ট (বুধবার) সন্ধ্যায় ফাহিমের লাশ নিয়ে তার হত্যার বিচার দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী ৩ ঘন্টা জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার ইনচার্জের হস্তক্ষেপে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সজীব বাহিনীর নির্যাতনের শিকার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা ছাত্রদলের সভাপতি সজীব হাসান ও তার বাহিনী গত ১০ বছর ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল। এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করত না। চটপটি বিক্রেতা পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি। আ.লীগের আমলে ওই দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় নানা ধরনের অপরাধ করেছে। ৫ আগস্টের পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে গেছে।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে মুক্তাগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মঞ্জুরুল হক আরিফের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে সজিবসহ অভিযুক্ত তিনজনকে বহিস্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানাে ওসি রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, দোকানের বাকি নিয়ে এধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।