দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবার নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। আগামী শনিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ইং তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে তিনি ‘মাছ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, যিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শুরু হয়েছিল ছাত্রজীবন থেকেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তাঁর অবিচল নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে কেন্দ্রীয় যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনে জায়গা করে দেয়।
গণতন্ত্রের সংগ্রামে বারবার কারাবরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চার ডজনেরও বেশি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি। তাঁর ভাষায়, “এই পদ আমার কাছে ক্ষমতার আসন নয়—এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব, একটি অঙ্গীকার এবং একটি আমানত।” তিনি আরও বলেন, “একটি শক্তিশালী সংগঠনের মেরুদণ্ড হলো ঐক্য। সেই ঐক্য রক্ষায় প্রয়োজন সৎ, ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। আমি সততা, শিষ্টাচার ও সুসম্পর্কের মাধ্যমে দলের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।”
ড. হিলালী তাঁর শিক্ষাজীবনেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ১৯৮৪ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে এইচএসসি-তে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর ২০১২ সালে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নেত্রকোনা-৩ আসনে ধানের শীষের নমিনি হিসেবে তাঁর কর্মতৎপরতা নেতাকর্মীদের কাছে তাঁকে একজন সৎ, সাহসী এবং কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে আমি ছাত্র জীবন থেকেই বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হই। বিএনপি-ই আমার জীবন, বিএনপি-ই আমার মরণ।”
কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের একটি ভোট আমার ত্যাগ, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান এবং দলের প্রতি ভালোবাসার স্বীকৃতি। নির্বাচিত হলে আমি নেত্রকোনা-৩ আসনে এমপি হিসেবে আপনাদের পাশে থেকে জনগণের সেবা করতে চাই।” তিনি সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নেত্রকোনা জেলা বিএনপি আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও সংগ্রামী রূপে গড়ে উঠবে।”