কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া চুরি, জুয়া, মাদক এবং দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধের জন্য একটি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ২নং ওয়ার্ডের ফতেপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মূল আলোচনা ও সিদ্ধান্ত
সভায় অংশগ্রহণকারীরা ফতেপুর গ্রামের ৫ জন যুবকের বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর করা মিথ্যা গণধর্ষণের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সকলকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান এবং তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের জন্য গ্রামবাসী এবং ইউনিয়নবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, ফতেপুর গ্রামের যুব সমাজকে রক্ষা করা শুধু অভিভাবকদেরই নয়, বরং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। বিশেষ করে, যদি বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী এই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা
রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন ভূঁইয়া সুরুজ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ মোস্তফা কামাল বাবলুর সঞ্চালনায় সভায় এলাকাবাসী, ছাত্র, শিক্ষক এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট ভোরে ফতেপুর গ্রামের কান্দাপাড়ার রুকনের বাড়ি থেকে মাদক ও দেহ ব্যবসার অভিযোগে স্থানীয়রা হাতেনাতে তিনজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন সোলাইমানের স্ত্রী আফরোজা আক্তার জহুরা, মৃত মোতালেবের ছেলে রুকন মিয়া এবং নান্দাইলের বাসিন্দা নুসরাত রহমান। পরে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং কেন্দুয়া থানা পুলিশ তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে। তবে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নুসরাত রহমান তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যুবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গণধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। এর প্রতিবাদেই এই সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।