খাসিয়ামারা নদী সংরক্ষণে উদ্বিগ্ন “হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন” এর পক্ষ থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ মহোদয়ের নিকট একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সাম্প্রতিক পরিদর্শনের পর জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রায় ৬ পাতা বিশদ বিশ্লেষণ, এবং সঙ্গে ২১টি প্রামাণ্য ছবি, যা নদীর বর্তমান বাস্তব চিত্র ও সমস্যাগুলোর সরাসরি দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে।
প্রতিবেদনটিতে নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, নদী ভঙ্গুরতা, নদী তীরসীমানায় অননুমোদিত অবৈধ দখলদারিত্ব এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নদী পলিউশন ও পানির সংকটের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে হাওরের অংশে জলস্তরের পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বন্যার ঝুঁকি ও বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়া নদী তীর এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্বেগ রয়েছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় কোন পর্যায়ে নদীর সীমানায় বেআইনি গড়ে ওঠা অবকাঠামো ও দখলদারিত্ব নদীর প্রবাহ ও পারিপার্শ্বিক বায়ু গড়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়া, নদীর পানির গুণগতমান হ্রাস পাওয়া এবং বর্জ্য প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে।
অভিযোগকারীরা জানান, তারা প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ আশা করছেন — যেমন নদী সীমানার পুনর্মাপকরণ, অননুমোদিত স্থাপনাগুলোর মাপসই উচ্ছেদ, নিয়মিত মনিটরিং এবং নদী গোসাই বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ।
ইউএনও অরূপ রতন সিংহ প্রতিবেদনের সময় আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং আন্দোলনের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন যে উল্লেখিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। তিনি বলেন, “প্রশাসন সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখবে এবং নদীর পক্ষে যে আইনগত ও প্রকৌশলগত সমাধান প্রয়োজন, তা দ্রুত কার্যকর করার দিকে কাজ করবে।”
নদী রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা ইতিমধ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় খাসিয়ামারা নদীর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তাঁরা আশায় জানান, আগামী মাসগুলোতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে এক সুসংহত কর্মপরিকল্পনা গঠন করা হবে, যাতে নদী পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরে পাওয়া যায় এবং স্থানীয় মানুষদের জীবনমান উন্নয়ন হয়।