জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট শিক্ষক শরীফ ওসমান হাদির অকাল প্রয়াণে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘নব নিউজ ২৪’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। আজ রবিবার এক শোকবার্তায় তারা এই বীরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রধান সম্পাদক, মোঃ রেজাউল্লাহ রেজা বলেন, “শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন সময়ের সাহসী কণ্ঠস্বর, যিনি অন্যায়ের সামনে কোনোদিন মাথা নত করেননি। জুলাই বিপ্লবের পর তিনি যখন ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বুনছিলেন, তখনই ঘাতকের বুলেট তাঁকে আমাদের মাঝ থেকে কেড়ে নিল। তাঁর এই প্রয়াণ কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক নক্ষত্রের পতন। শহীদ হাদির রক্ত বৃথা যেতে পারে না—তাঁর শুরু করা আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামকে আমরা আমাদের কলমের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবো। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোড় দাবি জানান তিনি।

নব নিউজ ২৪’এর প্রকাশক মোঃ নাজমুল হুসাইন তাঁর শোকবার্তায় বলেন, “একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও জুলাই বিপ্লবের বীর সৈনিককে হারিয়ে আজ আমরা নির্বাক। ওসমান হাদি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে, এ দেশ কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়, বরং এটি বীর জনতার। তাঁর সাহসিকতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে তিনি যে দেশপ্রেমের মশাল জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন, তা কখনো নিভবে না। ‘নাবো নিউজ ২৪’ পরিবার আজ এই বীরের পরিবারের পাশে আছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন ওসমান হাদিকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই অসহনীয় শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।”

আজ রবিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় এ যাবতকালে এত মানুষের ঢল বাঙালি জাতির ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি। জানাজা শুরুর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বীর ওসমান হাদি, তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছ এবং চিরদিন থাকবে বাংলাদেশ যতদিন আছে, তুমি সকল বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে।” জানাজা শেষে বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিস্থলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শায়িত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। তিন দিন পর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর স্মরণে গতকাল শনিবার সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পল্টন এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর এই মৃত্যুতে পুরো বাঙালি জাতি গভীর শোকাহত। ঢাকার রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও শোকসভায় ভেঙে পড়েছে লাখো মানুষ। গতকাল শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর থেকে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। আজ রবিবার (২০ ডিসেম্বর) সংসদ ভবন চত্বরে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে, যা তাঁর অসাধারণ জনপ্রিয়তা ও সম্মানের প্রতিফলন।
