ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা সমাপ্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্ধারণ করবেন আগামী সরকারের প্রধান কে হবেন।
এই নির্বাচনে সাথে একই দিনে গণভোট (রেফারেন্ডাম) অনুষ্ঠিত হবে, যা জুলাই জাতীয় সনদসহ সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে জনমত যাচাই করবে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় অনেক প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা মধ্যরাত পর্যন্ত গণসংযোগ চালিয়েছেন। কেউ কেউ ভোরের আলো ফুটতেই বেরিয়ে পড়েছেন ভোটারদের কাছে। নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে ঘুরে তারা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। প্রার্থীরা বলছেন, শেষ মিনিট বা সেকেন্ডও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এই সময়টুকু তারা ভোটারদের সাথে যোগাযোগে ব্যয় করতে চেয়েছেন।
প্রত্যেক প্রার্থীই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের আশা ব্যক্ত করেছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ভোটাররা সবাই শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে ভোট প্রদান করতে চান। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪৯টি জেলায় ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে এবং বাকি জেলাগুলোতে রোববারের মধ্যে সব ব্যালট সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। ৩০০টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সর্বোচ্চ গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। প্রার্থীর মোট সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।