গত কুরবানির ঈদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই বিরল অ্যালবিনো প্রজাতির মহিষটি এখন গবেষণার জন্য সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) স্থান পেয়েছে। মহিষটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সোমবার প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় গত রোববার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটিকে বিএলআরআই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে প্রাণিটিকে ১৪ দিনের প্রাথমিক কোয়ারেন্টিনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মহিষটির সার্বিক দেখভাল ও গবেষণার জন্য বিএলআরআই কর্তৃপক্ষ মহিষ উৎপাদন ও গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেবকে প্রধান করে এই ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব জানান, মহিষটি মূলত জাত উন্নয়নের গবেষণার জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় এর জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করা হবে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে থাকা মহিষটির বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং এটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। এখন থেকে প্রাণিটি বিএলআরআইয়ের স্থায়ী তত্ত্বাবধানেই থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ঈদুল আজহায় কুরবানির হাটে বিক্রির জন্য আনার পর গোলাপি আভা মেশানো সাদা রঙের এই বিরল অ্যালবিনো ষাঁড় মহিষটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। মহিষটি লালন-পালন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা। পরে ঈদের দিনকয়েক আগে পুরান ঢাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় এটি কিনে নেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে ঈদের আগের দিন মহিষটিকে সরকারি জিম্মায় নিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।