মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং উদীয়মান তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুজন মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলায় আইনজীবী সমাজ, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
গত ৬ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে মৌলভীবাজার পৌরসভা চত্বরে কতিপয় দুর্বৃত্ত অ্যাডভোকেট সুজন মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আইনজীবী সমাজের প্রতিবাদ:
সাংবাদিক সম্মেলনে আইনজীবী সমাজের প্রতিবাদে রোববার (তারিখ) দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম. মুজিবুর রহমান বলেন,
“সুজন মিয়ার মৃত্যু শুধু একজন আইনজীবী নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক প্রজন্মের স্বপ্নকে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই আইনজীবী সমিতি একদিনের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করে এবং জেলা কোর্ট রোডে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এতে সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক নিজেই। এরপর একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয় ।
প্রশাসনের প্রতি স্মারকলিপি প্রদান:
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফুলকোর্ট রেফারেন্স গৃহীত হয় এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রশাসনের:
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ জানান, জেলা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করছে। মামলার তদন্ত জোরালোভাবে চলছে এবং যৌক্তিক সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান বলেন, “সুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শহরের কিশোর গ্যাং ও ফুচকা বাজার কেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব উঠতি বয়সী অপরাধীরা সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই চক্রকে এখনই প্রতিহত না করলে সমাজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আহ্বান:
আইনজীবী সমাজ সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,“সাংবাদিক সমাজ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অতীতে যেমন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন, ভবিষ্যতেও এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পাশে থাকবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।”
আইনজীবী সমিতির কর্মসূচি অব্যাহত:
আইনজীবী সমাজ জানিয়েছে, সুজন মিয়ার মৃত্যুতে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ আদালতে কর্মবিরতিতে রয়েছেন এবং আইনি ও সামাজিক সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে অ্যাডভোকেট এম. মুজিবুর রহমান মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।