খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়ে পড়ায় দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে গুলশানে স্থায়ী কমিটির এই জরুরি বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত তার নেতৃত্বেই বিএনপি পরিচালিত হয়ে আসছিল। করোনা মহামারীর কারণে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না—ফলে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া পুরোপুরি মুক্তি পান। তবে তিনি আর রাজনীতিতে ফিরে আসেননি। দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তিনি মারা যান।
এই ঘটনার পর তারেক রহমানের চেয়ারম্যান নির্বাচন বিএনপির আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।