মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশটির তেল খাতে চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর এই দক্ষিণ আমেরিকান দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চীনের বিনিয়োগ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে। সম্প্রতি দেশটি জ্বালানি খাতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দিতে আইন সংশোধন করেছে। মাদুরোর শাসনামলে চীন ছিল ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা। কিন্তু ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর হাতে মাদুরো বন্দি হওয়ার পর বেইজিং ও কারাকাসের সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
ট্রাম্প এই অনিশ্চয়তা দূর করে স্পষ্ট করেছেন যে, চীন যদি ভেনেজুয়েলায় তেল খাতে বড় ধরনের চুক্তি করতে চায়, তাহলে ওয়াশিংটন তা স্বাগত জানাবে। তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। এর ফলে ভারত ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এখন থেকে তেলের লাভ যুক্তরাষ্ট্র ও কারাকাসের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক চমৎকার। এর ফলে দেশটি আগের চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারবে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও লাভজনক হবে।
এছাড়া ট্রাম্প কিউবা নিয়েও ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। এর আগে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও এখন তিনি একটি সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি বলেন, কিউবার স্বাধীনতার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবে। তার মতে, কিউবা এখন সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ওয়াশিংটনের কাছে একটি যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব নিয়ে আসবে।