মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের অধীনে নিতে চায় এবং এটি কোনো না কোনোভাবে ঘটবেই। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে কত খরচ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি এখন গ্রিনল্যান্ডের জন্য টাকা নিয়ে কথা বলছি না। হয়তো পরে সে প্রসঙ্গ আসতে পারে। কিন্তু এখন আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করতে যাচ্ছি—তারা চাইুক বা না চাইুক। কারণ আমরা না করলে রাশিয়া কিংবা চীন সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। আর আমরা চাই না রাশিয়া বা চীন আমাদের প্রতিবেশী হোক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বিষয়টি সহজ উপায়ে মিটমাট করতে চাই। কিন্তু সহজ উপায়ে না হলে কঠিন উপায়েও করতে হবে।”
গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের অংশ করার কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্পের জবাব: “কারণ মালিক হলে আমরা সেটা রক্ষা করতে পারব। লিজ নেওয়া জায়গাকে ওইভাবে রক্ষা করা যায় না। মালিক হতে হয়।”এই মন্তব্যগুলো ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় করা হয়েছে।
এর আগেও একাধিকবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত।’ ২০২৫ সালের মে মাসের শুরুতে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি বাস্তবায়নে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বছরের মার্চের শেষ দিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে। ভ্যান্স বলেন, সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।
তবে ৬ জানুয়ারি রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, ‘‘অবশ্যই, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সব সময়ই থাকে।’’
এর পর ৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘‘ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে তার সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন।’’
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক ন্যাটোর আওতায় গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের ওপর কোনো আগ্রাসন হলে দ্বীপটি রক্ষার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।