সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার ও ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লে. জেনারেল মাসুদ চৌধুরীর বাড়ি ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় শহরের ট্রাংক রোড থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফেনী ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন নাসিম চৌধুরীর বাড়িতে হানা দিয়েছে তারা।
এই সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিম চৌধুরীর বাড়ি ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা জানিয়েছেন, বিগত সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফেনীতে যাবতীয় অপকর্মের মূল হোতা এই আলাউদ্দিন নাসিম। তাই তার বাড়ি সবার আগে ভাঙা উচিত। যারা ছাত্র-জনতা হত্যার সাথে জড়িত তারা কেউ পার পাবে না। এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা স্টেশন রোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় হামলা চালিয়েছে। এই সময় তারা সেখানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
এছাড়া গতকাল রাত ১১ টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতার নেতৃত্বে দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ফেনী জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কোভিদ রতনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়াও ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর নানাবাড়ি সোনাগাজীর হিরন মেম্বারের বাড়িতেও অগ্নি সংযোগ চালানো হয়েছে।
তবে ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন হাজারীর তিনটি বাড়ি এখনো অক্ষত থাকলেও সেখানে কোন অগ্নিসংযোগ ও হামলা হয়নি। এর আগে ৫ অগাস্ট নিজাম হাজারীর পৈত্রিক বাড়ি, বিলাসবহুল বাগানবাড়ি ও ভোটকাছারি নামক বাড়ি ভাংচুর করে আগুন দিয়েছিল বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা। এদিকে ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীর সোনাগাজীর গ্রামের বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা। এসময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়িতে থাকা সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এসব ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।