বাল উত্তোলনের প্রভাবে মুহুরী কহুয়া নদীতে নাব্যতা সংকটে অনাবাদি হয়ে পড়েছে পরশুরাম ফুলগাজীর উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সেচের জন্য পানি না থাকায় বন্ধ হয়েছে পরশুরাম ফুলগাজীর ৩০টি সেচ স্কিম।ফলে জমিতে সেচ দিতে না পারায় চলতি মৌসুমে ২ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র মোতাবেক জানা গিয়েছে, মুহুরী কুহুয়া নদীতে কৃষকরা অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে ৫০ টি সেচ পাম্পের মধ্যে জমিতে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করে থাকেন। তবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এর জন্য কৃষকদের এ বাঁধ কেটে দেয়ার কারণে কহুয়া নদীতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না। এছাড়া পরশুরাম উত্তর বাজারে খোন্দকিয়া সংলগ্ন ব্রীজের ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে কহুয়া নদীর সেই স্থানে পানি আটকে আছে।
স্থানীয় কৃষকরা আরো জানিয়েছেন, নদীতে সেচের পানি না থাকায় পরশুরাম পৌর এলাকার উত্তর কোলাপাড়া ও দক্ষিণ কোলাপাড়া, বাঁশপদুয়া, খোন্দকিয়া, বাউরপাথর ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর ও দক্ষিণ টেটেশ্বরসহ প্রায় ৩০ গ্রামের বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, পৌর এলাকার বেড়া বাড়িয়া রাবার ড্যাম কৃষকদের কোন কাজে আসছে না।ফলে সেটি গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাবার ড্যাম এর কারণে কহুয়া নদীতে পানি প্রবাহিত হতে পারছে না।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, পরশুরামে ৩ হাজার ২০০ হেক্টর ও ফুলগাজীতে ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে মূলত মুহুরী,কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়। বর্তমানে কহুয়া নদীতে পানি না থাকায় ২টি উপজেলায় ৩০ টি সেচ পাম্প বন্ধ রয়েছে।
এই বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেছেন, বিষয়টি কৃষক ও সেচ পাম্প মালিকরা জানানোর পর তাৎক্ষণিক সার্ভেয়ার ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তাকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।