নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। একসময় যেখানে সেবার আলো জ্বলার কথা থাকলেও, আজ সেই ভগ্নপ্রায় ভবনের কক্ষেই তিন দিন ধরে চলছিল অন্য এক সমীকরণ। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শ্রীকান্ত সরকার (৪৫) এবং মোসাম্মত সেফালি আক্তার (৩৫) তিন দিন ধরে ব্যক্তিগত আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিলো।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই ভবনটি শ্রীকান্ত সরকার ব্যক্তিগত আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন। জনশ্রুতি আছে, সেখানে নাকি নেশাজাতীয় দ্রব্যেরও আনাগোনা ছিল। হয়তো এই নির্জনতাই যুগলকে দিয়েছিল তাদের ক্ষণিকের স্বস্তি।
জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় পূর্বধলা থেকে সেফালি আসেন কেন্দুয়ায়। এরপর থেকেই এই ভাঙাচোরা ভবনের গোপন কক্ষে তাদের সঙ্গ। কিন্তু সব আড়ালই যেন ক্ষণস্থায়ী। টানা তিন দিনের এই লোক চক্ষুর অন্তরাল শুক্রবার সকালে এসে আর রইল না। স্থানীয়দের সন্দেহ, গুঞ্জন এবং অতঃপর- হাতেনাতে আটক করা হয়। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
এসআই ইমন পাল জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনই দীর্ঘদিন ধরে এই পরকীয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
কেন্দুয়া উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈম হাসান এই ঘটনাকে ‘দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, শ্রীকান্তকে আগেও বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল।