মৌলভীবাজারে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর্দা ফাঁস করেছে জেলা পুলিশ। আইনজীবী সুজন মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার পেছনে ছিল ভুল টার্গেট, আর মূল পরিকল্পনা এসেছিল পুরনো শত্রুতার সূত্র ধরে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলেও মূল লক্ষ্য ছিল অন্য কেউ।
০৬ এপ্রিল, রাত ১০টা ৫০ মিনিটে মৌলভীবাজার পৌর এলাকার পশ্চিম সীমানায় মেইন রোডের পাশে বসে ছিলেন আইনজীবী সুজন মিয়া। ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
এজাহারভিত্তিক মামলা গ্রহণের পর, পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন (পিপিএম-সেবা)–এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) নোবেল চাকমার নেতৃত্বে তদন্তে নামে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম। ওসি গাজী মোঃ মাহবুবুর রহমান, তদন্ত কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন এবং এসআই সামছুল ইসলামের তৎপরতায় একাধিক স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়।
অভিযানে আটক হন: নজির মিয়া ওরফে মুজিব (মূল পরিকল্পনাকারী) মোঃ আরিফ মিয়া, হোসাইন আহমদ ওরফে সোহান, লক্ষন নাইডু ও আব্দুর রহিম।
তদন্তে উঠে আসে, নজির মিয়ার সাথে তার পাশের বাড়ির এক নিরাপত্তা প্রহরী মিসবাহের পূর্ব শত্রুতা ছিল। সেই শত্রুতার জেরে তাকে ‘শিক্ষা দিতে’ পরিকল্পিতভাবে খুনের ছক কষেন নজির। পরিচিত দুধ ব্যবসায়ী লক্ষনের সহায়তায় ভাড়াটে হামলাকারী নিয়োগ করা হয় এবং মোবাইল ফোনে টার্গেটের ছবি পাঠানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওই দিন বানিজ্য মেলায় টার্গেট মিসবাহ নয়, সুজন মিয়াকে মিসবাহ ভেবে হত্যা করা হয়।
ভিডিও কলে নিশ্চিত হয়ে নজির মিয়া নির্দেশ দিলে, সুজনের ওপর হামলা চালায় ভাড়াটে খুনিরা। পরে নজিরের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে পুরো হত্যাকাণ্ডের রহস্য।
এখনও পলাতক রয়েছে আরও কয়েকজন অভিযুক্ত, যাদের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ না করলেও, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ জানায়, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং মৌলভীবাজার সদর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।