মৌলভীবাজারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো: ইসরাইল হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব ফরহাত নূর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মো: রফিকুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক মো: ইসরাইল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, “জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি আমাদের দেশের জন্যও হুমকি স্বরূপ। তরুণ সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও নৈতিক শিক্ষা দিতে না পারলে তারা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারে। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, যাতে তরুণদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের পথ থেকে দূরে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে, তবে সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তরুণদের সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে তারা ভুল পথে পরিচালিত না হয়।”
জনাব ফরহাত নূর বলেন, “যুব সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারলেই জঙ্গিবাদের মতো ধ্বংসাত্মক প্রবণতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর তরুণদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।” তিনি অভিভাবকদেরও আহ্বান জানান, যাতে তারা সন্তানদের প্রতি নজর রাখেন এবং তাদের সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত রাখেন।
বিশেষ অতিথি মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের যুবসমাজের শক্তি এবং সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। তবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তাদের মাঝে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও আত্মনির্ভরশীলতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা তরুণদের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করছি, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়তা করছে।”
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা, এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিজ্ঞা করেন যে, সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
আয়োজকরা ভবিষ্যতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের আশ্বাস দেন।