মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তুলেছে বিএনপির এক সিদ্ধান্ত। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চার দশকের অভিজ্ঞ রাজপথের ত্যাগী নেতা মতিন বক্সের প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করেছে দল। শুক্রবার রাতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মতিন বক্স দলীয় নীতি পরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগ কি সত্যিই এত গুরুতর, নাকি জেলা বিএনপির ভেতরের টানাপোড়েনের বলি হলেন দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনকারী নেতা?
দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে মতিন বক্স ছিলেন রাজপথের পরীক্ষিত যোদ্ধা। যুবদলের থানা সভাপতি হিসেবে ১৯৮৮ সালে রাজনীতিতে উত্থান ঘটে তাঁর। এরপর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিলেট বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক—প্রতিটি ধাপে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল পদেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জেলজীবনের সঙ্গেও অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত মোট পাঁচবার কারাভোগ করেছেন তিনি। সর্বশেষ জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হয়ে আগস্টে নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান।
পদ স্থগিতের ঘোষণায় সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মতিন বক্স। তিনি বলেন, “আমি কোনো কাজ করিনি যা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। আক্ষেপ নেই—ধানের শীষেই ভোট দেব, অন্য কোনো দলে যাব না।” তাঁর এই মন্তব্য অনেকের চোখে একপ্রকার প্রতিবাদী অথচ বিশ্বস্ত সৈনিকের ঘোষণা।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে, মতিন বক্স ছিলেন মাঠের মানুষ। কঠিন সময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবসময়। কেউ কেউ মনে করেন, এমন নেতাকে সরিয়ে দেওয়া সংগঠনের ভেতরে হতাশার স্রোত বইয়ে দেবে। অন্যদিকে জেলা বিএনপির আরেকাংশ বলছে, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাংগঠনিক স্থিতি বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মতিন বক্সের পদ স্থগিত হওয়া কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং জেলা বিএনপির ভবিষ্যৎ সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ তৃণমূলে তাঁর যে ত্যাগ ও জনপ্রিয়তা, তা উপেক্ষা করার মতো নয়। ফলে সিদ্ধান্তের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া যেটিই হোক না কেন, এর অভিঘাত মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী হবে।