ফেনী জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে জনসাধারণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাগরিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ সহ পরিষদের অন্যান্য সেবা পেতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে নাগরিকদেরকে।
ফেনী জেলার মোট ৬টি উপজেলায় রয়েছে ৪৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ।৪৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪২ টিতেই নেই জনপ্রতিনিধি।ফলে কাঙ্খিত সেবা সহজে মিলছে না। দিনের পর দিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। ফেনী জেলার ৪৩ টি ইউনিয়ন এর ১টিতে শুধুমাত্র বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান রয়েছে যিনি ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি ৪২ টি ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের।
গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতন হওয়ার সাথে সাথে ৪০টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যায়। শুধুমাত্র সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির তার নিজ এলাকায় রয়েছেন।
অপরদিকে দাগনভূঞা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইরমে আছে সবার কারণে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়েছে।গত বছর ২০ আগষ্ট ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে প্রায় সব কয়টি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে তালাবদ্ধ থাকায় পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার , ফটোকপি মেশিন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। ফলে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আরো বেশি ভোগান্তি শুরু হয়েছে।
মোঃ সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে এসে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জন্ম নিবন্ধন এর কাজে পরিষদে আসলে চেয়ারম্যান মেম্বার কাউকে পাই নাই। জরুরী প্রয়োজন থাকার পর ও চেয়ারম্যান এর সাক্ষরের জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষকে একবার যেতে হচ্ছে উপজেলা পরিষদ, আরেকবার যেতে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। ফলে মানুষের দৌড়াদৌড়ি ও হয়রানি বাড়ছে। এছাড়া আগষ্ট মাসে ভয়াবহ বন্যায় পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু ডকুমেন্টস নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে সেবা প্রদান।