৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ পতন হওয়ার পর এবার বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম ব্যবহার করে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দিনাজপুর বিএডিসি অফিসটি গিলে খাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে।
একাধিক সংবাদ প্রকাশের পরও যেনো টনক নড়ছে না জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের। জানা যায় দিনাজপুর বিএডিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যেনো কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেধেছি কুলো এমন ভূমিকায় যেনো দুদক ও বিএডিসির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হলে ডিলার ও কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখ থেকে উঠতে পারবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
২৭ জানুয়ারি রবিবার সকালে বীরগঞ্জ উপজেলার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন ডিলার বলেন, এবার আলু মৌসুমে মাহবুবা বেগমের দায়িত্ব পড়ে যায় আলুর বীজ বিক্রির। তিনি বীজের সংকট দেখিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন, ফলে বাধ্য হয়ে ডিলাররা বেশি দামে আলুর বীজ বিক্রি করেছেন।
এজন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত আলু বীজের মূল্য কেজি প্রতি ৬২ থেকে ৬৬ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও ৬৮ থেকে ৭০ টাকায় আলু বীজ কিনতে হয়েছে কৃষকদের।
জানা যায় মাহবুবা বেগম ২০০৬ সালে দিনাজপুর বিএডিসি’তে কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদন্নতী পেয়ে বর্তমানে তিনি সেই একই দপ্তরের সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে চাকুরীর সুবাদে নিজ পরিবারে দিয়েছেন একাধিক বীজ ডিলারশিপ নিয়োগ। ডিলার নিয়োগেও নাকি নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। আবার ডিলার লাইসেন্স নবায়ন করতেও মোটা অংকের টাকা নেয়ারও অভিযোগ ও রয়েছে নাকি তার বিরুদ্ধে।
দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান মাহবুবা বেগমের বিয়ে হয় দিনাজপুর পৌর এলাকার উপশহরে। এখন থাকেন শহরের ঈদগাহ আবাসিক এলাকায়। অবৈধ অর্থ উপার্জনে তার এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।
বিলাস বহুল, বহুতল বাড়ি, গাড়ি, বিপুল ব্যাংক ব্যালেন্সসহ অঢেল সম্পাদের মালিক হয়েছেন তিনি। বিলাস বহুল আলিশান বাড়িতে একটি সু-প্রতিষ্ঠান এনজিওসহ বেশ কয়েকটি ভাড়াটিয়া রয়েছে বলেও জানা যায়। যেখান থেকে প্রতিমাসে এখন কমপক্ষে লাখ টাকা ভাড়া পেয়ে থাকেন।
বর্তমানে কম্পিউটার অপারেটর, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গুদাম রক্ষক ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
নীতিমালা উপেক্ষা করে নিয়মববহির্ভূত অসংখ্য স্বনামে-বেনামে বীজ ডিলারশীপ তৈরি তার হাতেই নাকি হয়েছে। অনেক ডিলারদের নেই নিজস্ব গুদাম, নেই দোকান বা যে স্থানের ডিলারশীপ লাইসেন্স আছে সেই স্থানে ব্যবসার কোন অস্তিত্ব নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে অন্য স্থানে।
এ বিষয়ে বিএডিসি দিনাজপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে কল করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অপরদিকে মাহবুবা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ শুনেছেন সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। আমি নিরলসভাবে জনসাধরণের সেবা দিয়ে চলেছি, এটা এই কুচক্র মহলের সজ্য হচ্ছে না। যে কোনভাবে আমাকে এখান থেকে সড়াতে পারলেই হয়তো তারা দলীয়করণ করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারবে।
তিনি আরো বলেছেন, আমি শত, নীতি ও আদর্শতার সাথে আমার দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে চলেছি বিধায় এই অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসা ও তাদের সহযোগিতা করতে পারতেসি বলেই সরকার আমাকে এখনো এখানেই দ্বায়িত্বে রেখেছেন।
অবৈধভাবে যে সমস্ত সম্পদের কথা বলা হচ্ছে, এত সম্পদের মালিক আমি নই। পারিবারিক ও ব্যবসায় লাভবান হওয়ার মাধ্যমে সামান্য কিছু সম্পদ বৃদ্ধি পেতে পারে কিন্তু সেটা খুবই সামান্য। এখানে দূর্নীতির কোন বিষয় নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ করা হচ্ছে তার সঠিক তদন্ত করা হোক। যদি আমি অপরাধী হিসেবে প্রমানিত হই নিশ্চই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি এর শাস্তির আওতায় আসবো এবং তদন্ত করতে প্রশাসনকেও সহায়তা করবো।