৪৩তম বিসিএসে বাদ পড়া ২২৭ জনের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ কথা জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বাদ পড়া এই ২২৭ জনের বিষয়ে এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের রিভিউ গোয়েন্দা প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে যাচাই-বাছাই শেষে এই মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সারসংক্ষেপ অনুমোদন হয়ে ফেরত এলেই নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করবে সরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসের ২২৭ জনের আবেদন পুনর্বিবেচনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে সবাইকে অবহিত করা হবে।’ বাদ পড়া ২২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হতাশার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন তারা। প্রত্যাশিত চাকরিতে যোগ দিতে না পারায় মানসিক দুরবস্থার পাশাপাশি অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর আবেদন, প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ৪৩তম বিসিএস থেকে ২ হাজার ১৬৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৯ জনকে বাদ দিয়ে গত বছরের ১৫ অক্টোবর ২ হাজার ৬৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিয়ে প্রথম গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এরপর ৩০ ডিসেম্বর ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে প্রথম সুপারিশকৃত ২ হাজার ১৬৩ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৪০ জন এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন বিবেচনায় সাময়িকভাবে অনুপযুক্ত ২২৭ জনসহ মোট ২৬৭ জনকে বাদ দিয়ে ১ হাজার ৮৯৬ জনকে নিয়োগের দ্বিতীয় আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
কিন্তু এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ওঠায় সমালোচনা এড়াতে ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী বাছাইয়ে এবং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সুপারিশ করা ২ হাজার ১৬৩ প্রার্থীর সবার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে আবার যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে ফের যাচাই-বাছাইয়ে ২২৭ প্রার্থীর বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া যায়। এ কারণে তাদের সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয় এবং তাদের বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
পরবর্তী সময়ে সচিবালয়ের সামনে চাকরিপ্রার্থী এই ২২৭ জনের ধারাবাহিক অবস্থান ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়ে চতুর্থ দফায় এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়।