শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য কেবল প্রথাগত পাঠ্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে বিতর্ক ও খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সাথে দেশের একাডেমিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ২০২৭ সালে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার শুরু করবে এবং ২০২৮ সালে একাডেমিক সিলেবাস হালনাগাদ করা হবে।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিভিন্ন অনুষদের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ইউনেস্কো কমিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দের পরামর্শ দিয়েছে। অতীতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১.৬৯ শতাংশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার ধাপে ধাপে এই বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। আগামী বছর তা ৩.৫ শতাংশে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ৪ ও ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ জাতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী জবিকে একটি ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, নতুন হল নির্মাণ ও আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও বিশেষ আলোচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আবাসন সংকট, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের ধীরগতি, বাজেট ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার মতো সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান। এসব সংকট দূরীকরণে তিনি সরকারের কার্যকর ও দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত ১০৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ থেকে ২৯ জন, কলা অনুষদ থেকে ২১ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ১৭ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে ১৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ১৫ জন এবং আইন ও চারুকলা অনুষদ থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।