1. info@dailyshadhinbarta.com.bd : sbarta : দৈনিক স্বাধীন বার্তা Shadhin Barta
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

তার মেজ ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘ এক মাস ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সংসদীয় জীবন

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মিরসরাইয়ের ধুম গ্রামে জন্ম নেওয়া এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লাহোর থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭০ সালে তিনি প্রথমবার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার মতো সাহসী অভিযানে নেতৃত্ব দেন, যা পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। এ ছাড়া তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড

রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যোক্তাও ছিলেন। কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘হোটেল সায়মন’ ও ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার পরিবারের নাম জড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন; ১৯৮০ সালে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছিল এবং ১৯৯২ সালে ফটিকছড়িতে তিনি গুরুতর আহত হন।

শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি আমৃত্যু নিজ আদর্শে অবিচল ছিলেন। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
LICENCE NO- TRAD/DSCC/210965/2019 and applied for registration.
Community Verified icon